গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ঢাকা ইপিজেডে বেশির ভাগ শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস সরবরাহ বাবদ বিপুল পরিমাণ বিল বকেয়া-সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে সাভারে অবস্থিত ঢাকা ইপিজেডে (ডিইপিজেড) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্যাস সরবরাহ বাবদ বিপুল পরিমাণ বিল বকেয়া-সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে সাভারে অবস্থিত ঢাকা ইপিজেডে (ডিইপিজেড) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিতরণ কোম্পানি তিতাসের কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে সেখানকার কারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গতকাল দুপুরের পর ঢাকা ইপিজেডে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সেখানকার রফতানিমুখী বেশির ভাগ শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে বেশির ভাগ কারখানাই ঠিকমতো উৎপাদনে যেতে পারেনি। ঢাকা ইপিজেড-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আজ শিল্প-কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঢাকা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) শরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিতাস গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ইপিজেডে ইউনাইটেড পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গতকাল দুপুরের পর থেকে অনেক কারখানা কোনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। রাতে অনেক কারখানায় নাইট শিফট ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসব কারখানা তাদের কর্মীদের ছুটি দিয়েছে।’

ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের জন্য কোনো চাপ দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা চাপে আছি। এটা রফতানিমুখী ইপিজেড, অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে গ্যাস সংযোগ পুনরায় দেয়া হবে এমন কোনো আশ্বাস আমরা এখনো পাইনি। বিষয়টি যদি রাতের মধ্যে সমাধান না হয়, তাহলে এখানকার বিদেশী কোম্পানিগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে। কর্মীদের নিয়েও অস্বস্তি তৈরি হবে।’

ঢাকা ইপিজেড বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীন। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ইপিজেডে মোট ১১৫টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ঢাকা ইপিজেডের কর্মকর্তারা বলছেন, সক্রিয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯০, যার বেশির ভাগ বিদেশী। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ কর্মী কাজ করেন।

গতকাল রাত ১০টায় সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার কারখানাগুলোয় তেমন কোনো কর্মতৎপরতা দেখা যায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি অনেক কর্মী জানতেন না। তারা কাজ করতে এসে জানতে পারেন কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

ইপিজেডে অবস্থিত হপ-ইক (বাংলাদেশ) লিমিটেডের কর্মী মেহেদি হাসান রাজু জানান, রাত ৮টায় তাদের কর্মঘণ্টা শুরু হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ। ভেতরে অতিরিক্ত গরম, তাই কারখানার বাইরে বিশ্রাম নিতে এসেছেন।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে রফতানিমুখী শিল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব শিল্প-কারখানা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উৎসাহ ও সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে ঢাকা ইপিজেডে আকস্মিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাসের বিল-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে তিতাসের জটিলতা দীর্ঘদিনের। বকেয়ার কারণে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে পারে তিতাস। তবে তার আগে অন্তত একটা নোটিস দেয়া উচিত ছিল। তাতে হয়তো বিকল্প উপায়ে বিদ্যুতের সংস্থান করা যেত।

যদিও বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগ ও তিতাস বলছে, ইউনাইটেডের সরবরাহ করা বিদ্যুৎ ছাড়াও সেখানে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প বিবেচনায় সেখানে যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিআরইবিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউনাইটেডের কাছে গ্যাস বিল বকেয়া দীর্ঘদিনের। এটার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে তারা বকেয়ার কিছু অংশ পরিশোধ করলে আমরা তিতাসকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলব। শিল্প অঞ্চল আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়। সেখানে উৎপাদন যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য বিআরইবি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যতটুকু চাহিদা রয়েছে ততটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছে ডিইপিজেড।’

ঢাকা ইপিজেড এলাকায় ইউনাইটেড গ্রুপের ৮৬ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে ইপিজেডে উৎপাদনরত কারখানাগুলোর জন্য দৈনিক ৪৫-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেখানে বিআরইবিরও বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। তবে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বিবেচনায় কারখানাগুলো ইউনাইটেডের কাছ থেকে বিদ্যুৎ নেয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় বিআরইবি সাত-আট মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, যা মূলত ইপিজেডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডিইপিজেডে গতকাল রাতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে তা জানতে গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় বিআরইবির সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. আব্দুর রহিম মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে বণিক বার্তাকে জানান।

বাংলাদেশ থেকে রফতানিমুখী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ঢাকা ইপিজেড। বেপজার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা ইপিজেড থেকে পণ্য রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১৬৯ কোটি ১২ লাখ ডলারের। এ হিসেবে দেশের মোট রফতানিতে ডিইপিজেডের অবদান ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৪৪৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যার ১৬ শতাংশ (৭০৭ কোটি ডলার) আয় এসেছে বেপজার অধীন নয়টি ইপিজেড থেকে।

ঢাকা ইপিজেডে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানা রয়েছে। ইপিজেডের শীর্ষ ১০ বিনিয়োগকারীর তালিকায় এসব দেশের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ কারখানাগুলো ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ নিয়ে কারখানা পরিচালনা করে। গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও ফাইন্যান্স) বেনেডিক্ট বেইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় অবশ্যই উৎপাদন ব্যাহত হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে এখনো ব্যাহত হয়নি। কারণ আমাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে, জেনারেটর রয়েছে। ইপিজেডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা কেবল ইমার্জেন্সিতে (জরুরি অবস্থা) আমরা ব্যবহার করি। এখন কোনো ইমার্জেন্সি পরিস্থিতি তৈরি হলে অবশ্যই উৎপাদন ব্যাহত হবে।’

ঢাকা ইপিজেডের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান শাশা ডেনিমসের রয়েছে ক্যাপটিভ বা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। তার পরও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা হতে পারে না। সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধের আগে অবশ্যই বেপজাকে জানানো উচিত ছিল। যদি বকেয়া থাকে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ঢাকা ইপিজেডের অধিকাংশ শিল্প ইউনিটের বিদ্যুতের উৎস ওই একটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন ব্যাহত হবে, শিপমেন্টে বিলম্ব হবে। উৎপাদন যদি একদিনের জন্যও ব্যাহত হয় তাতে ক্ষতি এড়ানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল।’

ঢাকা ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, সেখানে শীর্ষ ১০ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জাপানের ওয়াই কে কে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি গার্মেন্টের আনুষঙ্গিক বা অ্যাকসেসরিজ পণ্য প্রস্তুতকারক। দ্বিতীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ার। বস্ত্র খাতের ওই প্রতিষ্ঠানের নাম রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড। তৃতীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্সার বাংলাদেশ লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানও গার্মেন্টের আনুষঙ্গিক বা অ্যাকসেসরিজ পণ্য প্রস্তুতকারক। চতুর্থ থেকে দশম শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যথাক্রমে চীনের (হংকং) সাউথ চায়না ব্লিচিং অ্যান্ড ডায়িং ফ্যাক্টরি লিমিটেড, গোল্ডটেক্স লিমিটেড, বাংলাদেশের শাশা ডেনিম লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ংওয়ান হাই-টেক স্পোর্টসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাংলাদেশের ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডের হপ-ইক (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বস্ত্র, বিদ্যুৎ ও তৈরি পোশাক খাতের পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারক।

ডিইপিজেডের কারখানাগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, তৈরি পোশাকের অ্যাকসেসরিজ, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, অটোমোবাইল পার্টস, নিটিং অ্যান্ড টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, মেটাল পণ্য, ফুটওয়্যার, ক্যাপ ও ডিসপোজেবল প্লাস্টিক সিরিঞ্জ।

ইউনাইটেড পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাসের বিল পরিশোধ নিয়ে দফায় দফায় ইউনাইটেডকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারণে আমরা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করলে আমরা তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব। বকেয়া আদায়ের ব্যাপারে আমারা জিরো টলারেন্সে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। সেখানে অর্থ আটকে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হয়।’

গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে ইউনাইটেড পাওয়ার ও ঢাকা ইপিজেডকে কোনো নোটিস দেয়া হয়নি এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাসের শীর্ষ এ নির্বাহী বলেন, ‘গ্যাস বিল পরিশোধের জন্য ইউনাইটেডকে বারবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি অবগত। ঢাকা ইপিজেডকে চিঠি দেয়া হয়নি। কারণ তিতাসের গ্যাস চুক্তি ইউনাইটেডের সঙ্গে। ঢাকা ইপিজেডের সঙ্গে নয়।’

ঢাকা ইপিজেডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ না পেলে রফতানিমুখী শিল্পে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিতাসের এমডি বলেন, ‘রফতানিমুখী শিল্পের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিতাসের পক্ষ থেকে বিআরইবিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বলা হয়েছে। ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে সাভারের ওই এলাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে বিআরইবির। আমরা সেখানে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছি।’

তবে বকেয়ার বিষয়টি নিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপ বলছে, চুক্তি অনুযায়ী তিতাস কোনো বকেয়া বিল পাবে না। তাদের সরবরাহকৃত সব বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স মো. শামীম মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‌‘আমাদের কোনো বিল বকেয়া নেই। গত মাস পর্যন্ত গ্যাসের পাওনা বিল পরিশোধ করেছি। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে তিতাস কোনো নোটিসও দেয়নি । তিতাসের কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকা ইপিজেডের কারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। যেহেতু তিতাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের এখন কিছু করার নেই।’

জ্বালানি বিভাগ ও তিতাস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ বাবদ ইউনাইটেড গ্রুপের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে তিতাসের ৪৭৮ কোটি টাকা গ্যাসের বকেয়া বিল রয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে পুঞ্জীভূত বকেয়ার বিষয়ে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ইউনাইটেড বকেয়া পরিশোধ করেনি বলে দাবি তিতাসের। বিল-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে জ্বালানি বিভাগ, তিতাস, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেছে। সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেখান থেকে ইউনাইটেড গ্রুপকে বকেয়া বিল পরিশোধে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও ইউনাইটেড গ্রুপ দাবি করেছে, গ্যাস চুক্তি অনুযায়ী তিতাসের গ্যাস বিল পরিশোধ করা হয়েছে, কোনো বকেয়া নেই।

আরও